Featured

এই গরমে তরমুজ খাবে যে কারনে

ঘরে বা বাইরে সব জায়গাতেই গরম প্রচণ্ড। বাইরে বের হলেই ধুলোবালি থেকে শুরু করে বাতাসে ভেসে বেড়ায় নানা জীবাণু। এ সময় সবচেয়ে বেশি ভয়ানক রোগ হচ্ছে বসন্ত রোগ।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তরমুজে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম ও আঁশ প্রভৃতি রয়েছে। তরমুজের ৯২ শতাংশই পানি, যা আপনাকে সারাক্ষণ সতেজ রাখতে সাহায্য করে। তাই শরীরে পানির অভাব পূরণ করতে তরমুজই হলো আদর্শ খাবার। ফলটির নানা রোগপ্রতিরোধের অসাধারণ ক্ষমতাও রয়েছে।

তরমুজের রস কিডনির বর্জ্য মুক্ত করে।

এক নজরে দেখে নিন তরমুজের কিছু গুণের কথা-

পানিশূন্যতা দূর করে: তরমুজে প্রচুর পরিমাণ পানি আছে। গরমের সময় যখন ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায় তখন তরমুজ খেলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয়। ফলে শরীর থাকে সুস্থ ও সতেজ।

চোখের যত্নে: তরমুজে আছে ক্যারোটিনয়েড। আর তাই নিয়মিত তরমুজ খেলে চোখ ভালো থাকে এবং চোখের নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ক্যারোটিনয়েড রাতকানা প্রতিরোধেও কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

শক্তি বাড়ায়: যারা শারীরিক শক্তির দিক থেকে দুর্বল তাদের জন্য তরমুজ প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে কাজ করে। এই ফল শারীরিক শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

কিডনির সুস্থতায়: তরমুজের রস কিডনির বর্জ্য মুক্ত করে। তাই কিডনিতে পাথর হলে, চিকিৎসকগণ ডাবের পানির পাশাপাশি তরমুজ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ত্বকের যত্নে: তরমুজে থাকা ভিটামিন সি ত্বককে সজীব রাখে। পাশাপাশি ত্বকের যে কোন সংক্রমণে প্রতিরোধি ব্যবস্থায় সহায়তা করে। লাইকোপিনসহ বিভিন্ন উপাদানে সমৃদ্ধ তরমুজ খাওয়ার অভ্যাসে বার্ধক্য দেরিতে আসে। ত্বকে সহজে ভাঁজ বা বলিরেখা পড়ে না। ত্বকে কালো ছোপ বা মেছতা যাদের আছে, তারা একবাটি তরমুজ প্রতিদিন খেতে পারেন। এতে উপকার পাবেন।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: তরমুজে থাকা ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

কণ্ঠশিল্পী মিলার স্বামীর সঙ্গে এই মেয়েটি কে? (ভিডিও)

কণ্ঠশিল্পী মিলা ও তার স্বামীর ঘটনা এখন কারও অজানা নয়। আর মিলা নিজেই এখন সব কিছু তুলে ধরছেন তার ফেসবুকের মাধ্যমে।

মিলা বরাবরই বলে আসছেন দশ বছরের প্রেম করেও তিনি যে তথ্য পাননি সেই তথ্য তিনি জানতে পেরেছেন বিয়ের তের দিন পর। এবং তিনি সেটা প্রমাণও করেছেন তার ফেসবুকে।

গত কয়েকদিন আগে তার স্বামী ও জান্নাত নামের একজনের ফেসবুকে চ্যাটিং এর ৮৬টি স্ক্রিনশট দিয়েছেন এবং মেয়েটির সঙ্গে একটি ছবিও পোস্ট করেছেন।

এরপর আরও একটি নতুন ছবি পোস্ট করেছেন তিনি, ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে একই বিছানায় পারভেজের সঙ্গে জান্নাত নামের মেয়েটি আছেন। পারভেজ যখন ঘুমাচ্ছিলেন মেয়েটি তখন সেলফি তুলেছেন। এখন পাঠকের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে, তাহলে এত কিছু কিভাবে মিলা জানলেন? এই প্রশ্নের উত্তর মিলা নিজেই দিয়েছেন।

এ নিয়ে তিনি ফেসবুকে বলেন, ‘আমার বিয়ের ১৮ তম দিনে কথাবার্তা বলতে গিয়ে আমার স্বামী তার পরকীয়ার ব্যাপারে ধরা খেয়ে যায়। আমার প্রিয় স্বামী অনেকগুলো মেয়ের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়েছেন। কেন আমি এ সব ১০ বছরেও জানতে পারলাম না? স্বামীর অনেক বিষয় আছে যা স্ত্রী একদিনে বুঝে ফেলতে পারে। কিন্তু প্রেমিকা ১০০ বছরেও পারে না। আমার স্বামী যখন দেশের বাইরে যায়, আমি আমার মেইল চেক করার জন্য তার কম্পিউটার চালু করি। আমি দেখতে পাই তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট লগ ইন করা। যেটার এক্সেস ও আমাকে কোনদিন দেয় নাই। এবং আমি তার ফ্রেন্ড লিস্টেও ছিলাম না। কারণ সে প্রাইভেসি মেইন্টেইন করতে চাইতো। এই ১৩ দিনে আমি তার সম্পর্কে যা জানতে পারলাম, সেটা ১০ বছরেও জানতে পারিনি।’

এ বিষয়ে মিলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি যা বলার সব কথা পাবলিকলি বলেছি। আমার ভেরিফাইড ফেসবুকে যে ধারাবাহিক ভাবে আমার এবং পারভেজের সম্পর্কে যা লিখেছি এবং যে সমস্ত স্ক্রিনশট দিয়েছি তা সবই সত্য। এ ব্যাপারে আলাদা করে বলার কিছু নেই। আমি ন্যায্য বিচার চাই। এতটুকুই আমার চাওয়া। আমি আইনি লড়াই লড়ে যাচ্ছি। সামনে আরও অনেক কিছু দেখতে পারবেন।’

উল্লেখ্য, মিলা ধারাবাহিকভাবে তার ফেসবুক ভেরিফাইড পেজে একের পর এক তথ্য দিয়ে যাচ্ছেন তার স্বামীর বিরুদ্ধে। প্রথমে বিচ্ছেদ, তারপর তাকে নির্যাতন করেছেন মানসিক ও শারীরিক ভাবে। আবার বিচ্ছেদে যাচ্ছেন না, যৌতুক দাবি করেছেন শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এরপর বললেন তাকে তার স্বামীর বন্ধু বান্ধব এবং পরিবারের লোকজন হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।

জিহ্বা কেটে স্ত্রীকে খুন করল স্বামী

স্ত্রীকে কুপিয়ে ও জিহ্বা কেটে হত্যা করেছে এক পাষণ্ড স্বামী। নিহত স্ত্রীর নাম শাহীনুর বেগম (৫৫)। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং জিহ্বা কেটে নির্মম ভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় পাষণ্ড স্বামী মমিনুল ইসলাম (৬০)। এ ঘটনার পর থেকে ঘাতক স্বামী মমিনুল পলাতক রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার শেখরনগর ইউনিয়নের পশ্চিম পাউশার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন যাবৎ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগেই ছিল। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার বিচার সালিশ হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রীকে মারধর করে মুমূর্ষু অবস্থায় রেখে পালিয়ে যায় স্বামী মমিনুল। পরে শুক্রবার সকালে নিহতের স্বজনরা শাহিনুর বেগমকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পথে সে মারা যায়।

নিহত শাহিনুর বেগমের ভাই সুলতান মিয়া জানান, প্রায় ৩৮ বছর আগে আমার বোনের সাথে বিয়ে হয় মমিনুলের। বিয়ের পর থেকেই বোনকে নির্যাতন করতো সে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অমানবিক ভাবে নির্যাতন করে আমার বোনের জিহ্বা কেটে ফেলে এবং মাথায় একাধিক আঘাত করে মমিনুল। পরে শুক্রবার সকালে ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পথে রাস্তায় আমার বোন মারা যায়।

শেখরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, একাধিক বার বিচার সালিশ করার পরও মমিনুল শুধরায়নি। তেমন কোনো কারণ ছাড়াই সব সময় স্ত্রীকে মারধর করতো। সর্বশেষ স্ত্রীকে মেরেই ফেলল। আইনের মাধ্যমে তার শাস্তি হোক এটাই আমরা চাই।

এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানার শেখরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি ছিল। রাতে স্ত্রীকে মেরে মমিনুল পালিয়ে যায়। লাশ ময়নাতন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা আছে এবং এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে কি কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা জানা যায়নি।

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অন্তঃসত্ত্বা ইউপি সদস্যকে ধর্ষণ

রাঙ্গামাটিতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী ইউপি সদস্যকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই নারীর চাচাতো ভাই ঝন্টু চাকমাকে গ্রেফতার করে শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ওই নারী ইউপি সদস্যকে বর্তমানে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। গ্রেফতার ঝন্টু চাকমার বাড়ি লংগদু উপজেলার ছোট কাট্টলি এলাকায় বলে জানা গেছে।

ওই নারী ইউপি সদস্য বলেন, গত ২৪ এপ্রিল (বুধবার) আমি লংগদু থেকে রাঙ্গামাটি আসি। ওইদিন আমার চাচাতো ভাই ঝন্টু চাকমা আমাকে ফোন দিয়ে বলে গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে। ভাই হওয়ার কারণে তাকে বিশ্বাস করে রিজার্ভ বাজারের গ্রিন ক্যাসেল হোটেলে তার রুমে যাই। সে আমাকে কোকাকোলার সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানোর পর ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমি তার কাছে হাত-পা ধরে মাফ চাওয়ার কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে পড়ি। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমি বিবস্ত্র, আমার পাশে ঝন্টু। আমি বুঝতে পারি রাতে সে আমাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। পরে আমি আমার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে শুক্রবার তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করি।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহিদুল আলম রনি বলেন, ওই নারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ঝন্টু চাকমাকে গ্রেফতার করে বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহেদ আহম্মদের আদালতে তোলা হয়। তিনি ঝন্টু চাকমাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং আগামী ১২ মে পরবর্তী হাজিরার তারিখ ঠিক করেন।

নওগাঁয় শিশুর পানিপড়া খেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হচ্ছেন নিঃসন্তান নারীরা!

নওগাঁয় নয় বছরের এক শিশু কবিরাজি পানিপড়া চিকিৎসা দিচ্ছে। আর এ পানিপড়া খেয়ে নিঃসন্তান দম্পতিরা অন্তঃসত্ত্বা হচ্ছেন বলে অনেক নারীই দাবি করেছেন। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত নিঃসন্তান দম্পতি ছুটে আসছেন ওই শিশুর বাড়িতে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন পানিপড়া নেয়ার জন্য। এমন কাণ্ড চলছে নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটী ইউনিয়নের সরিষপুর গ্রামের হাজীপাড়ায়।

কথিত কবিরাজ শিশুটির নাম দিপু। বাবার নাম জানা যায়নি। তবে মায়ের নাম দেলেয়ারা বেগম। আর এ পানিপড়াকে কেন্দ্র করে সেখানে গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ অনেক দোকানপাট।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নওগাঁ শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার পশ্চিমে সরিষপুর গ্রাম। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গ্রামের প্রবেশ পথে রাস্তার দু’ধারে মাইক্রোবাস, অটোচার্জার ও ভ্যান-রিকশা সারি সারি করে রাখা হয়েছে। রাস্তা থেকে দিপু কবিরাজের বাড়ি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। সেই রাস্তা থেকে মানুষের লাইন শুরু হয়েছে কবিরাজের বাড়ি পর্যন্ত।

ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একটি আম বাগানের মধ্যে টিনের বেড়া দিয়ে তৈরি একটি ঘর ও বারান্দা। আর এ বারান্দায় বসে পানিপড়া দিচ্ছে শিশু দিপু। তার সামনে একটি দানবাক্স মসজিদের জন্য এবং ঘরের বাইরে আরেকটি দানবাক্স মন্দিরের জন্য। যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা বাক্সে নিজেদের ইচ্ছামতো দান করছেন।

আর এ ঘরের আশপাশে অন্তত দেড় হাজার নারী প্রত্যেকের হাতে একটি ব্যাগ নিয়ে লাইন হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। ব্যাগের মধ্যে আছে একটি করে পানি, তেল ও মধুর বোতল। ওইসব নারীর সঙ্গে এসেছেন অনেকেই। তাদের অনেকেই আম বাগানের মধ্যে চটি (মাদুর) পেতে শুয়ে-বসে আছেন। আবার অনেকেই রান্নার জন্য খাসি, মুরগি জবাই করছেন। সেই রান্না জোগান দিতে পিঁয়াজ-রসুন বাছাই করছেন কেউ কেউ।

দিপু কবিরাজের কাছে পানিপড়া নিতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে হাজীপাড়ার আম বাগানে অনেকে অবস্থান নিয়েছেন। তার বাড়ির দরজা থেকে শুরু হয়েছে লাইন। ফজরের নামাজের পর শুরু হয় পানিপড়ে দেয়া। আর এ দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে অনেক নারী ক্লান্ত হয়ে লাইনের পাশে বসে পড়েছেন। কবিরাজের দরজায় আলম নামে এক যুবক পাহারা দিচ্ছেন। নারীরা একে একে কবিরাজের কাছে যাচ্ছেন আর ২/৩ মিনিট পর পানিপড়া নিয়ে বেরিয়ে আসছেন। আলমের মতো এখানে ১৫/২০ জন যুবক বাইরে থেকে আসা মানুষদের নিয়ন্ত্রণ করছেন।

জানা গেছে, দুই সন্তান নিয়ে অন্যের জমিতে টিনের বেড়াদিয়ে ঘর করে আছেন দেলেয়ারা বেগম। স্বামী তাদের ছেড়ে অনেক আগে চলে গেছেন। বিভিন্নস্থানে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন। এখন আর কাজ করতে হয় না। গ্রামের সমসের আলী হাফেজিয়া মাদরাসায় পড়াশোনা করে কবিরাজ হয় শিশু দিপু। তবে কুরআন পড়া এখনও শুরু হয়নি। দিপুর বয়স ৯ বছর হলেও ৬ বছর বয়স থেকে পানিপড়া দিয়ে আসছে।

প্রতিবেশী জহুরুল ইসলামের বউয়ের দীর্ঘদিন থেকে কোনো বাচ্চা হচ্ছিল না। তিন বছর আগে তার বউকে পানিপড়া দেয়া হলে গর্ভধারণ করে এবং বাচ্চাটি নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে আবারও একটি মেয়ে সন্তান জন্ম দেয়। গত তিন বছর থেকে এ কবিরাজি চিকিৎসা দিয়ে আসছে। তখন তেমন ভিড় ছিল না। এ বিষয়ে তেমন কোনো প্রচার-প্রচারণা করা হয়নি। যাদের বাচ্চা হয়েছে এবং উপকৃত হয়েছেন তারাই মূলত এ প্রচার প্রচারণা করেছেন।

তবে গত তিনমাস থেকে কবিরাজ দিপুর কাছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া ও জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত নারী-পুরুষ আসছেন পানিপড়া নিতে। পড়া পানি একজন নারীকে দিনে দুবার খেতে হয় এবং একজন পুরুষকে পড়া মধু দিনে দুবার খেতে হয়। এছাড়া পড়া তেল একজন পুরুষকে দিনে দু’বার শরীরে মাখতে হয়। এভাবে একজন নারীকে ৩/৫ সপ্তাহ চিকিৎসা নিতে হয়। এরমধ্যে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয় বলে কবিরাজের দাবি। অন্তঃসত্ত্বা হলে ডাক্তার দিয়ে কোনো চিকিৎসা বা আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো যাবে না বলেও নিষেধ করা হয়। প্রতি শুক্রবার করে পানিপড়া দেয়া হয়ে থাকে। কবিরাজি চিকিৎসা নিতে খরচ হয় তাবিজ ১৩০ টাকা এবং কবিরাজি ফি ১০ টাকা। যাদের মনোবাসনা পূরণ হয় তারা কবিরাজের বাড়িতে এসে খাসি জবাই করে উপস্থিত সবার মাঝে বিতরণ করেন। গত শুক্রবার ২৮টি খাসি জবাই করা হয়েছে বলেও জানা যায়।

নওগাঁ সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ দম্পতির গত ২৩ বছরে কোনো সন্তান নেই। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কবিরাজের বাড়িতে এসে স্ত্রী শাহিদা বেগমকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন ডাক্তার ও কবিরাজের কাছে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চিকিৎসা নিয়েও কোনো কাজ হয়নি। কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সংবাদ পেয়ে এখানে এসেছি পানিপড়া নিতে। শুক্রবার বেলা ১০টা পর্যন্ত তার স্ত্রীর সামনে আরও ৩০ জন নারী দাঁড়িয়ে ছিল।

রাজশাহীর পুঠিয়া থেকে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুলশিক্ষিকা বলেন, বৃহস্পতিবার তার মাকে কবিরাজের বাড়িতে পাঠিয়েছেন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে তিনি কবিরাজের বাড়িতে এসে প্রায় দেড়শ জনের পেছনে জায়গা পেয়েছেন। দাম্পত্য জীবনে গত ১০ বছর হলো কোনো সন্তান হয়নি ওই শিক্ষাকার। পানিপড়ার বিষয়টি জানতে পেরে এসেছেন তিনি।

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর গ্রামের ইমন হোসেন বলেন, সংসার জীবনে ৭ বছরে কোনো সন্তান হয়নি। এখানে ৬ সপ্তাহ পানিপড়া খেয়ে তার স্ত্রী সন্তান সম্ভাবা হয়েছে। তাই পরিবারসহ এখানে এসে খাসি জবাই করে মানত পূরণ করলাম।

কবিরাজ দিপুর মা দেলেয়ারা বেগম বলেন, দিপু যখন পেটে তখন থেকেই অনেক কিছু উপলদ্ধি করতাম। জন্মের আড়াই মাস বয়সে এক রাতে বাচ্চা সাপের রূপ ধারণ করে। এরপর অনেক ডাক্তার ও কবিরাজ দেখানো হয়। কবিরাজ বাচ্চার গায়ে হাত দিলেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। আমাদের অসহায়ত্ব দেখেই নাকি বাচ্চার ওপর জিনের আছর পড়েছে। তখন কবিরাজরাই বলেন বাচ্চাটিকে আমাদের কিছুই করার নেই। যখন বাচ্চার শরীরে জিনের ভর করে তখন কোনো নিঃসন্তান দম্পতি থাকলে তাকে বাচ্চা জন্মধারণের ক্ষমতা দেয়া হবে বলেও জানানো হয়। এছাড়া কেউ যদি কাউকে কুফরি করে সেটাও ভালো করা যাবে। এরপর ৬ বছর বয়স থেকে পানিপড়া দিয়ে আসছে। রোগী দেখতে দেখতে বাচ্চা যখন অস্বস্তি বোধ করে তখন একটু দেরি করে বাইরে থেকে ঘুরে এসে আবার দেখা শুরু করে। বৃহস্পতিবার রাতে ছেলের গায়ে যখন ভর করে (জিন হাজির হয়) কুরআনের সবকিছু বলতে পারে।

দুবলহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান বলেন, মানুষ কতটুকু উপকৃত হচ্ছে তা জানি না। তবে এটা ভুয়া ও মানুষের সঙ্গে প্রতারণা মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসছে। এটা নিয়ে এলাকায় একটা পক্ষ তৈরি হয়েছে। যে কোনো সময় সংঘর্ষের সৃষ্টি হতে পারে। প্রশাসনকে এ বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।

নওগাঁ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই বলেন, ছদ্মবেশে ঘটনাস্থলে (বৃহস্পতিবার) পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ রকম চিকিৎসা বন্ধ করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মুমিনুল হক বলেন, মেডিকেল সাইন্সে বন্ধা নারীর পানিপড়া খেয়ে পেটে বাচ্চা আসে এরকম কোনো নিয়ম নেই। এছাড়া সাইনটিফিক (বৈজ্ঞানিক) এরকম কোনো বিধানও নেই। যেখানে পানি, মধুপড়া এবং তেলপড়া ব্যবহার করলে পেটে বাচ্চা আসে। যদি এরকম কোনো ঘটনা হয়ে থাকে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সূত্র: জাগো নিউজ।

সারেগামাপাতেও ভারতীয়-বাংলা‌দে‌শি বিভক্তি হচ্ছে?

বাংলাদেশের ছেলে নোবেল। সারেগামাপার মাধ্যমে পরিচিত পায় দেশ বিদেশ জুড়ে। নোবেলের তৈরি হয় ভক্ত-শুভাকাঙ্খি। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশের শিল্পীদের উপরে নজর রাখছেন ভারত সরকার। গত সপ্তাহে চিত্রনায়ক ফেরদৌসের ভিসা বাতিল করে দেশে ফেরত পাঠায় দেখটি। এরপর অভিনেতা নুরকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রতি শনি ও রবিবার ভারতীয় একটি টিভি চ্যানেলে প্রচার হয় সারেগামাপা অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠান নিয়ে এক যুবক তার নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হচ্ছে:-

বিষয়টা ভীষণ দৃ‌ষ্টিকটু লে‌গে‌ছে। সারেগামাপায় আজ নো‌বেল‌কে এক বিচার‌কের কমন নম্বর দেয়া আমার ভীষণ দৃষ্টিকটু লে‌গে‌ছে। মাথার ভেতর খচখচ কর‌ছে। এমন হ‌লে না লেখা পর্যন্ত আমার স্ব‌স্তি হয় না। তাই লিখ‌ছি। পাশাপা‌শি সারেগামাপা কর্তৃপ‌ক্ষের দৃ‌ষ্টি আকর্ষণ কর‌ছি।

প্রথ‌মেই ব‌লি আ‌মি টি‌ভি দেখা প্রায় ছে‌ড়ে দি‌য়ে‌ছি। একসময় কলকাতার দর্শকরা বাংলা‌দেশের অনুষ্ঠান দেখ‌তো, এখন বাংলা‌দে‌শের দর্শকরা ভারত বা কলকাতার অনুষ্ঠান দে‌খে। টি‌ভি না দেখ‌লেও আমি গান শু‌নি। আর সেই কার‌ণে অ‌নিয়‌মিত হ‌লেও প্র‌তি শ‌নিবার ও রোববার রা‌তে সারেগামাপা দে‌খার চেষ্টা ক‌রি। অ‌নেক সময় পা‌রি না। অনেক সময় পা‌রি। যখন পা‌রি তখন আমার কা‌ছে গা‌নের এই অনুষ্ঠানটাকে ম‌নে হয়, সপ্তায় ঘন্টাখা‌নে‌কের স্ব‌স্তি বা রিল্যা‌ক্সেশ‌ন। আর তাই সেখা‌নে কোনো অসামঞ্জস্য দেখ‌লে ব্য‌থিত হই।‌ আজ যেমন হ‌য়েছি।

বাংলা‌দেশের যারা সা‌রেগামাপা দে‌খেন তা‌দের সবার নিশ্চয়ই বাংলা‌দে‌শি শি‌ল্পি নো‌বে‌লের গান ভা‌লো লা‌গে। ত‌বে বল‌তে দ্বিধা নেই সা‌রেগামার চূড়ান্ত প‌র্বে এখন যারা আছেন তাদের সবার গান অসাধারণ। যে কেউ প্রথম দ্বিতীয় হ‌তে পা‌রেন। কিন্তু বিচারক‌দের যেন কারও প্র‌তি পক্ষপা‌তিত্ব না থা‌কে যেমনটা আজ‌কে দেখলাম।

নো‌বেল বরাবরের ম‌তোই অসাধারণ গান গাই‌লো। মহী‌ন ঘোড়াগু‌লির তারারাও যতো আলোকবর্ষ দূরে গানটা এম‌নি‌তেই ভা‌লো গাইলো পাশাপা‌শি সুম‌নের সা‌থে মা‌ঝি দে পাল তু‌লিয়া গানটাও অসাধারণ গাইলো। অনুষ্ঠা‌নের তিনজন বিচারকই নো‌বে‌লের গা‌নের প্রশংসা কর‌লেন। অন্য‌দি‌কে সুম‌নের কিছুটা সমা‌লোচনা কর‌লেন। অথচ কী অবাক কাণ্ড সুমন আর নো‌বেল‌কে একই পাল্লায় মে‌পে দুজ‌নেকই ১০ এ ৯ দি‌লেন সম্মা‌নিত বিচারক শ্রীকান্ত আচার্য।

আমি খুব অবাক হলাম, বা‌কি দুই বিচারক মোন‌ালি ঠাকুর আর শান্তনু মৈত্র যেখা‌নে নো‌বেল‌কে ১০ এ দশ দি‌লেন সেখা‌নে শ্রীকান্ত আচার্য নো‌বে‌লের এতো প্রশংসা ক‌রেও কেন ৯ দি‌লেন কিছু‌তেই বুঝলাম না। তার কা‌ছে সুমন আর নো‌বেল দুজ‌নেই আজ‌কে সমান? তার মা‌নে বে‌শি ভা‌লো আর কম ভা‌লো গাই‌লেও একই নম্বর?

বাংলা‌দে‌শের অনে‌কেই আশঙ্কা প্রকাশ কর‌ছেন, শুধু বাংলা‌দে‌শি ব‌লেই হয়‌তো চূড়ান্ত বিচা‌রে নো‌বেলকে প্রথম নাও করা হ‌তে পা‌রে। আবার দর্শক টে‌নে রাখ‌তে তা‌কে হয়‌তো শেষ পর্যন্ত রাখা হ‌বে কিন্তু প্রথম করা হ‌বে না। আমি এই ধ‌রনের আশঙ্কা উড়ি‌য়ে দি‌তে চাই।

সা‌রেগামাপা কর্তৃপক্ষ‌কে বল‌তে বাধ্য হ‌চ্ছি, আজ‌কে নো‌বে‌লকে নম্বর কম দেওয়ার বিষয়‌টি সাধারণ যে কোনো দর্শক‌কে আহত কর‌বে। আশা কর‌ছি সাম‌নের দিনগু‌লো‌তে সব বিচারক আরও সতর্ক হ‌বেন। যার যা প্রাপ্য তা‌কে তাই দিন। ভা‌লো গান গে‌য়ে যে কেউ প্রথম দ্বিতীয় হোক। এখা‌নে যেন ভারতীয়, বাংলা‌দে‌শি, গুজরা‌টি এমন বিভ‌ক্তি না করা হয়।

আমি বিশ্বাস ক‌র‌তে চাই সা‌রেগামাপা গা‌নের অনুষ্ঠানটা দুই বাংলার মানু‌ষের ম‌ধ্যে ভা‌লোবাসাটা আরও বাড়া‌বে যেই চেষ্টাটা প্রয়াত কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য সবসময় কর‌তেন। আমি বিশ্বাস ক‌রি চল‌চ্চিত্র, শিল্প, গান এসব মানুষ‌কে মননশীল ক‌রে। সুন্দ‌র ক‌রে। আশা কর‌ছি আমা‌দের সবার ম‌ধ্যে বোধগু‌লো আরও জাগ্রত হ‌বে। আশা কর‌ছি সা‌রেগামাপার মতো অসাধারণ গা‌নের অনুষ্ঠান আরও বে‌শি বে‌শি হ‌বে। ভাতৃত্ব বাড়া‌বে দুই বাংলায়। তৈ‌রি কর‌বে অ‌নেক অ‌নেক শি‌ল্পী। ভা‌লো থাকুন সবাই।

প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিলেন অন্ধ নাবিক!

একটানা নৌযান চালিয়ে প্রথমবারের মতো প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়েছেন এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। জাপানের ওই নাবিকের নাম মিৎসুহিরো ইওয়ামোতো।

বিবিসি জানিয়েছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নৌচালনায় সহকারী মার্কিন নাগরিক ডউগ স্মিথের সঙ্গে রওনা দেন ইওয়ামোতো। স্মিথ তাকে বাতাসের দিক পরিবর্তনের মতো তথ্য দিয়ে সহায়তা করেন। প্রায় দুই মাস সমুদ্রভ্রমণ শেষে শনিবার সকালে জাপানের ফুকুশিমা বন্দরে পৌঁছেন তারা।

ইওয়ামোতোর ইয়টটি ১৪ হাজার কিলোমিটার জলপথ পাড়ি দিয়ে ফুকুশিমায় পৌঁছলে সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাকে স্বাগত জানান।

তিনি তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি হার মানিনি এবং আমার স্বপ্নপূরণ করেছি। আমি দেশে পৌঁছেছি। আপনাদের ধন্যবাদ।’

জাপানের কিয়োডো নিউজ জানায়, এটিই প্রথম কোনো অন্ধ নাবিকের প্রশান্ত জয়ের ঘটনা।

৫২ বছর বয়সী অসীম সাহসী নাবিক ইওয়ামোতো সান ডিয়াগোর বাসিন্দা। মাত্র ১৬ বছর বয়সে দৃষ্টিশক্তি হারান তিনি। ছয় বছর আগে তিনি প্রথমবার এ কঠিন কাজটি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সেবার তার ইয়টটি তিমির আঘাতে ডুবে যায়।

গায়ে হলুদে স্ত্রীকে নিয়ে নাচলেন মমিনুল! (ভিডিও)

চুপিসারেই দীর্ঘদিনের বান্ধবী ফারিহা বাশারকে বিয়ে করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক। গত বছর বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তারা। শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) তাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) আয়োজন করা হয় গায়ে হলুদের। আর জাকজমকপূর্ণ এই হলুদে স্ত্রীকে নিয়ে নাচতে দেখা গেল মুমিনুলকে।

সবসময় চুপচাপ থাকা মমিনুলকে নাচতে দেখে অনেকটাই অবাক সবাই। তার এই নাচ দেখলো দুই পরিবারের সদস্যরা। এরই মধ্যে তার নাচের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়ে পানি নিয়ে এসেছিল নুর উদ্দিন!

শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেলো না নুসরাত জাহান রাফিকে। মা-বাবার আর্তি, সতীর্থসহ সকলের প্রার্থনা আর চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে পাঁচদিন একটানা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার (১১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি।

নুসরাতের শরীরে আগুন দেয়ার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের জনগণ। সর্বত্র উঠেছে বিচারের দাবি।

এদিকে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করে আরও একজন জবানবন্দি দিয়েছেন।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে আবদুর রহিম ওরফে শরিফ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ নিয়ে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন।

এর আগে ১৪ এপ্রিল ফেনীর আদালতে জবানবন্দি দেন দুই আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন সেলিম। তাদের বক্তব্যে জানা গেছে রাফির গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের আদ্যোপান্ত।

তিনজনের স্বীকারোক্তিতেই জানা গেছে, অধ্যক্ষের নির্দেশেই তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। বিষয়টি নিয়ে তাদের দফায় দফায় বৈঠকও হয়। কারা কী করবেন সেটার পূর্ণাঙ্গ একটি ছকও আঁকেন। তাদের স্বীকারোক্তিতে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পাওয়া গেছে রোমহর্ষক বর্ণনা।

এর আগে পিআইবিও জানিয়েছিল, অধ্যক্ষের নির্দেশেই নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

সূত্র জানায়, নুর উদ্দিনের জবানবন্দিতে জানান, ২৭ মার্চ পিয়ন দিয়ে নুসরাতকে নিজের কক্ষে ডেকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন সিরাজ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কারাগারে যান অধ্যক্ষ সিরাজ। সিরাজের সঙ্গে ফেনী কারাগারে দেখা করতে যান নুর উদ্দিন, হাফিজ, আফছার, আলাউদ্দিন, জনি, মাকসুদ। তারা দেখা করতে গেলে তাদের কিছু করার নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ। আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলর মাকসুদকে জানানোর পর সিরাজউদ্দৌলা মুক্ত পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। যার আহ্বায়ক হন নুর উদ্দিন। ২৮ মার্চ অধ্যক্ষের পক্ষে মানববন্ধন করেন তারা। সিদ্ধান্ত হয় ৩০ মার্চ আবার মানববন্ধন করার।

১ এপ্রিল কারাগারে দেখা করতে যান সিরাজের দুই ছেলেসহ ১২ জন। দ্রুত কিছু করার নির্দেশ দেন সিরাজ। ৩ এপ্রিল তারা সবাই আবার দেখা করতে যান। প্রয়োজনে নুসরাতকে হত্যার জন্য সিরাজ আলাদা নির্দেশ দেন নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামিম, হাফেজ কাদের, জাবেদ ও জোবায়েরকে।

৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত চূড়ান্ত বৈঠক হয়। উপস্থিত ছিলেন নুর, শামিম, কাদের, জোবায়ের, জাবেদ, মহিউদ্দিন শাকিল, মো. শামিম, ইমরান, ইফতেখার ও শরীফ। হত্যার প্রস্তাব উত্থাপন করেন নুর উদ্দিন, শাহাদাত শামিম ও হাফেজ কাদের। পরিকল্পনার কথা কাউন্সিলর মাকসুদকে জানালে ১০ হাজার টাকা দেন। এর আগে মাদ্রাসার ইংরেজি শিক্ষক সেলিম আরও পাঁচ হাজার টাকা দেন।

৬ এপ্রিল পরিকল্পনা মতো মাদ্রাসার গেটে অবস্থান নেন নুর উদ্দিনসহ পাঁচজন। নুসরাতের সঙ্গে আসা ভাই নোমানকে ঢুকতে দেননি নুর উদ্দিন। সাইক্লোন সেন্টারের নিচে পাহারা দেন মহিউদ্দিন শাকিল ও শামীম।

গায়ে আগুন নিয়ে সাইক্লোন সেন্টারের নিচে নেমে আসে নুসরাত। তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে পরীক্ষার হলে থাকা পুলিশ কনস্টেবল ও মাদ্রাসার নিরাপত্তারক্ষীরা। গায়ে আগুন দেয়ার পর সে দৌড়ে নিচে এলে সবার সামনে পানি নিয়ে আসে নুর উদ্দিন। এমনকি হাসপাতালে নিতে সিএনজি অটোরিকশাও ঠিক করে দেন তিনি। পরে অন্যদের সঙ্গে কথা বলে, ময়মনসিংহে আত্মগোপন করেন নুর উদ্দিন।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ায় সরাসরি অংশ নেয়া শাহাদাত হোসেন শামীমের জবানবন্দিতে জানা যায়, দেড় মাস আগে নুসরাত জাহার রাফিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হন তিনি। পুরনো ক্ষোভ থেকেই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলার পর তাকে বাঁচাতে উদ্যোগী হন তিনি।

জবানবন্দিতে শামীম জানান, ৪ এপ্রিল রাতে সাড়ে ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত চূড়ান্ত বৈঠকে আগুনের পোড়ানোর প্রস্তাব উপস্থাপন করেন তিনি। কেরোসিন কেনার দায়িত্বও নেন তিনি। রাফিকে দ্বিধায় ফেলতে পপিকে শম্পা নামে ডাকারও সিদ্ধান্ত হয়। থানা ও মামলার বিষয় উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন ও কাউন্সিলর মাকসুদ দেখবেন বলে নিশ্চয়তা পাওয়া যায়।

জবানবন্দিতে জানা যায়, পরিকল্পনা মতো, উম্মে সুলতানা পপি ডেকে আনবে রাফিকে, তিনজনের জন্য বোরকা আনবে কামরুন্নাহার মনি আর কেরোসিন কিনবে সে নিজেই। বৈঠকের সিদ্ধঅন্ত জানানো হয় কাউন্সিলর মাকসুদ, ইংরেজি শিক্ষক সেলিম ও আফসার, অধ্যক্ষ সিরাজের দুই ছেলে মিশু ও আদনানসহ পপি এবং মনিকে। সবাই একমত হয়।
৬ এপ্রিল সকালে মাদ্রাসায় এসে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বোরকা পরে তৈরি হয় সবাই। সাড়ে ৯টার দিকে মনির আনা বোরকা পরে শামীম, জাবেদ ও জোবায়ের। পৌনে দশটায় পপি রাফিকে ডেকে আনে তার বান্ধবী নিশাতকে মারধর করা হচ্ছে বলে। দুজনের পেছনে ছাদে ওঠে চারজন। রাফিকে প্রথমে ধরে পপি ও মনি। শামীম মুখ চেপে ধরে। মাটিতে ফেলে ওড়না দিয়ে হাত পা বাঁধে জোবায়ের। পরে এক লিটার কেরোসিন ঢেলে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন দেয় জোবায়ের। যাতে লাগে প্রায় পাঁচ মিনিট।

ঘটনার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনকে ফোন করে বিস্তারিত জানায় শামীম। পরে আত্মগোপন করে মুক্তাগাছায়। সেখান থেকেই শামীমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বুধবার আবদুর রহিম স্বীকারোক্তিতে বলেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে ও পরামর্শে নুসরাতকে হত্যার জন্য গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগানো হয়। এ জন্য ২৮ ও ৩০ মার্চ দুই দফা কারাগারে থাকা মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করেন। ৪ এপ্রিল সকালে অধ্যক্ষ সাহেব ‘মুক্তি পরিষদের’ সভা করা হয়। রাতে ১২জনের এক সভায় হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত ও দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। তার (রহিম) দায়িত্ব পড়ে মাদ্রাসার গেটে। সেখানে নুর উদ্দিন, আবদুল কাদেরও ছিলেন। মাদ্রাসার ছাদে বোরকা পরে ছিলেন শাহাদাত, জোবায়ের ও জাবের। এ ছাড়া ছাদে ছিলেন মণি ও পপি।

নুসরাতকে নিয়ে ছোট ভাই রায়হানের আবেগঘন স্ট্যাটাস!

শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেলো না নুসরাত জাহান রাফিকে। মা-বাবার আর্তি, সতীর্থসহ সকলের প্রার্থনা আর চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে পাঁচদিন একটানা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার (১১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি।

নুসরাতের শরীরে আগুন দেয়ার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের জনগণ। সর্বত্র উঠেছে বিচারের দাবি।

যে শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে নিরাপদে থাকার কথা সেখানে গিয়েই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে নুসরাতকে। অনেক বাঁধা উপেক্ষা করে নুসরাত তার সাথে করা অপরাধের প্রতিকার চাইতে গিয়েছিলেন থানায়, সেখানেও তাকে তুচ্ছ, তাচ্ছিলের শিকার হতে হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও শেয়ার হয়েছে। যা সারা দেশের মানুষের মতো নুসরাতে পরিবারেও বিষাদের ছায়া ফেলেছে। এই বিষাদ ফুটে উঠেছে নুসরাতের ছোটভাই রায়হানের আবেগঘন স্ট্যাটাসে। রায়হান তার স্ট্যাটাসের শিরোনাম দিয়েছেন, ‘ঘাতকের আগুনে পুড়ে ছারখার আমাদের সোনালী সংসার’। নিচে স্ট্যাটাসটি হুবুহু উপস্থাপন করা হলো:-

আবার এসেছিল বৈশাখ, পাড়া প্রতিবেশীর ঘরে ঘরে দেখছি আনন্দের বন্যা। আর আমাদের ছোট্টঘর নিকোষ অন্ধকারে আচ্ছন্ন। অথচ গত বছরের এই সময় আমাদের এই সংসারে কতইনা আনন্দ ছিল। আজ আপুমণিকে হারিয়ে সকল উৎসব অশ্রুজলে বিবর্ণ হয়ে গেছে। ঘাতকের আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে গেলো আমাদের সোনালী সংসার।

কখনোও ভাবিনি আমাদের সমাজে মানুষের পোষাকধারী কিছু অসভ্য জন্তু-জানোয়ার বসবাস করে। যদি আগে জানতে পারতাম তাহলে কলিজার টুকরা আপুকে কখনোও ঘর থেকে বের হতে দিতাম না। মানুষ কতটা নির্দয়-নির্মম হলে একজন মানুষকে পুড়িয়ে মারতে পারে! কী অপরাধ ছিলো আমার আপুর ?

একজন লম্পটের যৌন নিপীড়ন রুখে দিতে প্রতিবাদী হয়েছিলো আমার আপু। সেই প্রতিবাদের মৃত্যু হয়েছে ১০৮ ঘন্টা বার্ণ ইউনিটে (ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) আপুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের মাধ্যমে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। বাবা-মায়ের পর শিক্ষকরাই আমাদের বড় অভিভাবক। আর সেই অভিভাবক যখন একজন ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন, তখন মনে হয় এই সমাজ আর ভালো নেই।আবার লম্পটকে বাঁচানোর জন্য তার পক্ষে নিয়েছিল কিছু রাজনীতিবিদ ও মানুষরুপী লম্পট। লম্পটের বিচার চাইতে গিয়েছিলাম ওসি সাহেবের কাছে। তিনি আমার আপুকে নিরাপত্তা না দিয়ে মানুষিক নির্যাতন করে ভিডিও করলেন। ওসি সাহেব যদি সচেতন হয়ে বিষয়টি তদন্ত করতেন কিংবা আমার আপুর নিরাপত্তা জোরদার করতেন, তাহলে আমার আপুকে পরপারে পাড়ি দিতে হতো না।

মনে পড়ছে আপুমণির আইসিউতে বলা শেষ কথাগুলো ‘রায়হান, আম্মা-আব্বার দিকে খেয়াল রাখিস। আমাকে নিয়ে চিন্তা করতে বারণ করিস। আমাকে যারা পুড়িয়ে দিলো তাদের যেন সঠিক বিচার হয়। না হলে আমি মরেও শান্তি পাবো না।’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার আপুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। লম্পটদেরকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আপুকে দেশের বাহিরে পাঠানোর জন্য ডাক্তারগণকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ডাক্তারগন সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও আপুকে বাঁচাতে পারিনি। আমাদের পরিবারকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডেকে তিনি একজন মমতাময়ী মায়ের পরিচয় দিয়েছেন। আমরা তার কাছে বলেছি, আমার আপুর হত্যাকারীদের যেন দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হয়। তিনি আমাদের নিশ্চিত করেছেন, বিচারে কোন দুর্বলতা রাখা হবেনা। আসামীদের রেহাই দেয়া হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিচার-প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে বলতে চাই, এই সকল জানোয়ারদের কঠিন শাস্তি দেয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যেন কোন ভাইয়ের বুক থেকে তার বোনকে কেড়ে নিতে না পারে।

প্রতিদিন সন্ধ্যায় যখন বাড়ী ফিরে দেখি আপুর রুমটা খালি পড়ে আছে। যেই টেবিলে বসে পড়ালেখা করতো সেখানে বই খাতাগুলো ঠিকই আছে। আছে আপুর ব্যবহৃত জিনিসপত্রগুলো। নেই শুধু আমার কলিজার টুকরা আপুটি। বিশ্বাস করুণ, একবুক চাঁপা কষ্ট, বেদনায় আমার ছোট্ট হৃদয়টি দুমড়ে মুচড়ে যায়। প্রতিটি মুহূর্তে মনে পড়ে যায় আপুর কথা। ঘুমের ঘরে জেগে উঠি আপুর শেষ দিনগুলির নির্মম কষ্টের কথা স্বপ্নে দেখে। শেষ রাতে চোখে একফোঁটা ঘুম আসেনা আপুর কথা ভেবে।

আমাদের পরিবারের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক ছিলো আপু। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সাথে তার ছিলো আন্তরিকতাপূর্ণ ভালোবাসার সম্পর্ক। শান্ত মেজাজের অধিকারী হওয়ায় পরিবারের সকল সমস্যা অত্যন্ত ধীরচিত্তে সমাধান করতো। আমাদের সাথে দূরের কথা পাড়া-প্রতিবেশীর কারও সাথে কোনদিন ঝগড়া-বিবাদে নিজেকে জড়ায়নি। আব্বুর অনেক আস্থাভাজন হওয়ার কারণে, আব্বু কোন দিন তার প্রিয় সন্তানের কোন চাহিদা অপূর্ণ রাখেননি। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর তার কোরআন তেলোয়াতের মধুর সুর এখনও আমার কানে বাজে।

বাড়ির সকল কাজে আম্মুকে সহযোগিতা করতো। আম্মু আমাদের নিয়ে টেনশন করলে, আপু অভয় দিয়ে বলতো আমরা এমন কোন কাজ করবো না যাতে আপনাদের সম্মান হানি হয়। বরং আমরা ৩ ভাইবোন পড়ালেখা করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে সমাজে আপনাদের মুখ উজ্জল করবো। সেই উজ্জলতার প্রতিচ্ছবি ছিলো আমাদের সংসার। আপুর মতো ক্ষণজন্ম বোন আমাদের ছোট ঘরকে সবসময় আলোকিত করে রাখতো। যা আজ নিভে গিয়ে একমুঠো ছায়ায় পরিণত হয়েছে।

আজ সারাদেশে এমন কি দেশের বাহিরেও আমার আপুর হত্যাকান্ড মানুষ যেভাবে প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেছে, তাতে আমার মনে পড়ে যাচ্ছে কবির বলে যাওয়া কথা…‘এমন জীবন করিবে গঠন / মরণে হাসিবে তুমি/ কাঁদিবে ভুবন’

আল্লাহর কাছে একটাই চাওয়া আমার আপুকে যেন তিনি জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন। আর খুনিদের দুনিয়া ও আখেরাতে কঠোর শাস্তি প্রদান করেন। (আমীন)

রায়হান
হতভাগা নুসরাতে ছোট ভাই

কোটি টাকা মূল্যের তক্ষকসহ আঙ্গুর মিয়া আটক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে একটি তক্ষক পাচার করার সময় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদরের কলেজ মোড় থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটককৃত ব্যক্তির নাম আঙ্গুর মিয়া (৪৫)। তিনি নাসিরনগর উপজেলার ধনকুড়া এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জের মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া থেকে ৭৫ হাজার টাকায় তক্ষকটি ক্রয় করেন অভিযুক্ত আঙ্গুর মিয়া। পরে তক্ষকটি কোটি টাকায় বিক্রির উদ্দেশে ঢাকা নেয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় উপজেলা সদরের কলেজ মোড় এলাকায় আসলে তক্ষকটিসহ আঙ্গুর মিয়াকে আটক করে পুলিশ।

নাসিরনগর থানার এএসআই রিপন চক্রবর্তী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী তক্ষকসহ আঙ্গুর মিয়াকে আটক করা হয়েছে। পরে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা দিয়ে আটককৃত আঙ্গুর মিয়াকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।