নুসরাতই নয়, আরও একাধিক ছাত্রী সেই অধ্যক্ষের লালসার শিকার!

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে আরও একাধিক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ছাত্রীর অভিযোগ, অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা যে শুধু আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির সঙ্গে এমনটা করেছেন তা নয়। আমাদের অনেকেরই সাথে এমন করেছে তিনি। এটা ওনার (অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা) একটা অভ্যাস ছিল।

নুসরাতকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি শেষ পর্যন্ত মা-বাবার আর্তি, সতীর্থসহ সকলের প্রার্থনা আর চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ৫দিন একটানা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যান।

অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা নুসরাতকে তার কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন। পরে এ ঘটনায় গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার।

এরপর গত ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষায় অংশ নিতে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে গেলে পরীক্ষার আগ মুহূর্তে মিথ্যা কথা বলে দুর্বৃত্তরা নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তার দায়ের করা শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে নিতে বলে। সে রাজি না হলে দুর্বৃত্তরা তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে নুসরাতের শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায়।

একাধিক ছাত্রীদের অভিযোগ, নুসরাত সহ একাধিক ছাত্রী যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে ওই মাদ্রাসা কমিটির কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় হিংস্র ও বেপরোয়া ছিলেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। আবার কোন প্রতিকার না হওয়ায় ভয়ে অনেক ছাত্রী অভিযোগ করতেও একপর্যায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

অবশ্য এই ব্যর্থতার দায়ে মাদ্রাসার পরিচালনা পরিষদ বাতিলের দাবি উঠেছে।

এ বিষয়ে ফেনীর জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহেদুজজামান গণমাধ্যমকে জানান, গভর্নিং বডি নিয়ে যে কথা উঠছে, যদি তাদের কোনো গাফিলতি থাকে তাহলে সেটা আমরা দেখবো। রিপোর্ট পাওয়ার পরে জানা যাবে যে কার কোথায় গাফিলতি ছিল। তদন্তে দায়ী হলে মাদ্রাসা কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত আক্তার রাফিকে যৌন হয়রানি করেছিল ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। এ ঘটনায় নুসরাত থানায় অভিযোগ করলে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা তুলে না নেওয়ায় নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। গত ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে গিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া হয়। পরে গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে শিক্ষাঙ্গানে যৌন নিপীড়ন-সহিংসতা রোধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা প্রণীত হলেও মানছে না ফেনী সহ দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে করে দিনে পর দিন বাড়ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির ঘটনা।