সাহসী মেয়ের কারণেই নতুন জীবন পেলেন বাবা!

পৃথিবীতে সব থেকে মধুর সম্পর্ক বাবা আর মেয়ের সম্পর্ক। কারণ মেয়ে জানে পৃথিবীতে অন্তত এই একজন পুরুষ রয়েছে যে তাকে কখনোই কষ্ট দেবে না।

বাবার সাথে মেয়ের যে সম্পর্ক, সেটাকে যেন আরো একবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন ১৯ বছর বয়সী ভারতের এক কিশোরী। বাবার জীবন বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি স্বত্ত্বেও নিজের একটি লিভার উপহার দিলেন বাবাকে।

বাবার বয়স ৬৫। কিছুদিন ধরেই পেটে ব্যথা হতো, কিছু খেতে পারতেন না। হাসপাতালে ভর্তির পর জানা গেল তিনি লিভারের কঠিন রোগে আক্রান্ত। সুস্থ করার জন্য লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে! কিন্তু কে দেবে লিভার? এগিয়ে এলেন একমাত্র মেয়ে রাখী দত্ত। বললেন, বাবার জন্য তিনি নিজের লিভারের অংশবিশেষ দান করতে প্রস্তুত! অবশেষে সেই সাহসী মেয়ের কারণেই নতুন জীবন পেলেন বাবা! জানুন রোমাঞ্চকর সেই গল্প।

বাবা-মেয়ের সম্পর্ক সবসময়ই একটু আবেগমাখা হয়ে থাকে। রাখী দত্তের ক্ষেত্রেও তাই ছিল। বাবার এমন কঠিন রোগ হয়েছে শুনে প্রথমে ভেঙে পড়েছিলেন রাখী। তারপর ঠাণ্ডা মাথায় পুরো ব্যাপারটা ভেবে দেখেন। তার জীবনে বাবার প্রয়োজন আছে। বাবাকে অনেক ভালোবাসেন রাখী। তাই সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেননি। নিজের জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও বাবার জীবন বাঁচাতে নিজের লিভারের ৬৫% দান করতে এক কথায় রাজী হয়ে যান।

এরপর শুরু হয় জটিল এক অস্ত্রোপচারের আয়োজন। হায়দরাবাদের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলোজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রাখীর বাবাকে। কলকাতা থেকে দুজন লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ সেখানে উপস্থিত হয়ে এই জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করেন। সুস্থ হয়ে ওঠেন রাখীর বাবা। পেটে অপারেশনের গভীর চিহ্ণসহ বাবা-মেয়ের ছবি এখন সোশ্যাল সাইটে ভাইরাল। ১৯ বছরের মেয়েটির দুর্দান্ত সাহস আর ভালোবাসার প্রশংসা না করে উপায় আছে?

তীব্র গরমের মাঝে বৃষ্টির পূর্বাভাস

বৈশাখ কেবল এসেছে। আর এরই মধ্যে রেকর্ড পরিমাণে তাপমাত্রা বেড়েছে। বাংলা নতুন বছরের আগের দিন (১৩ এপ্রিল) হতে তাপমাত্রা ২৫ থেকে ৩৫ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠা-নামা করছে।

১৬ এপ্রিল ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গা জেলায়, ৩৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

মাঝে মাঝে কালবৈশাখী ঝড় হলেও তীব্র রোদ ও ভ্যাবসা গরম কমছে না। এই গরম সহ্য করতে পারছে না শিশু ও বয়স্করা। ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে তাদের।

এপ্রিলের বাকি দিনগুলোয় গরম আরও বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন আবহাওয়াবিদরা।

এদিকে দেশে অব্যাহত তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি আগামী তিনদিনের মধ্যে বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এতে বলা হয়, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আবহাওয়া প্রধানতঃ শুষ্ক থাকতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গতকাল দেশে রাঙামাটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী তিনদিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের এপ্রিল মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে দেশের উত্তর ও উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলে বেশ কয়েকটি দাবদাহ বয়ে যেতে পারে। এর প্রভাবে তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে।

দাবদাহের পাশাপাশি ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাসও দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ ছাড়া সাগরে সৃষ্টি হতে পারে বেশ কয়েকটি নিম্নচাপ। একটি নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে আঘাত হানতে পারে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে। ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টি হলে গরম হয়তো কিছুটা কমবে।

তবে ঝড়বৃষ্টি যা-ই হোক না কেন, এপ্রিল মাসে গরমের হাত থেকে খুব সহজে হয়তো রক্ষা পাওয়া যাবে না। কিন্তু তাপমাত্রা কতটুকু উঠতে পারে, সেটি এখন দেখতে হবে।

২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল গত পাঁচ দশকের মধ্যে রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০ সালের ৩০ এপ্রিল ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৯৭২ সালের ১৮ মে রাজশাহীতে ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠে।

বাথরুম থেকে নগ্ন অবস্থায় বের করে আমাকে নির্যাতন করা হয়: মিলা

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মিলাকে নগ্ন অবস্থায় বাথরুম থেকে বের করে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি সম্প্রতি তার ফেসবুক পেইজে দেয়া স্ট্যাটাসে এই অভিযোগ করেন।

১৬ এপ্রিল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে অভিযোগ করে তিনি লিখেন, কত কত জীবিত ‘নুসরাত’ আইন এর কাছে দাঁড়ান দিনের পর দিন…কিন্তু না মেরে ফেলা পর্যন্ত তাদের জন্য কোনও আওয়াজ উঠবে না… আইন দেশের সুন্দর… দুই বছর হয়ে যাচ্ছে… কোর্ট এ উল্টা জঘন্য ভাবে চিৎকার দিয়ে অপবাদ দেয়া হয় আমাকে … বিচার তো দূর…দাখিল করা ‘খ’ ধারার চার্জশিট আমাকে না বুঝতে দিয়ে ‘গ’ ধারায় মামলা চার্জ গঠন করা হয়…

আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে.. আমার জানা ছিল, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় কোন রকমের হস্তক্ষেপে নেত্রীর কঠোর নিষেধ রয়েছে … তিন বার আদালতের আদেশ টানা অমান্য করলে জামিন বাতিল হবার কথা… পাঁচ বার আমাকে কোর্ট নানান বুঝ দিয়ে পার্মানেন্ট জামিন দেয়… আমি এখন বলতেও পারি নাই শেষের দিন আমার শাশুড়ি, আমার স্বামীর কথায় আমাকে কিভাবে বাথরুম থেকে দরজা ভেঙে বিনা কাপড় পরিহিত অবস্থায় জঘন্য ভাবে টেনে আমার দেবর তার স্ত্রী এবং তার স্ত্রীর বাবা মায়ের সামনে এক ঘন্টা গালিগালাজ করতে থাকে… আমার বাবা Viber এ ভিডিও কলের মাধ্যমে পুরা টা ঘটনা দেখে… এক পর্যায়ে আমি হাত জোড় করে ভিক্ষা চাই এই বলে ‘আম্মু আমাকে মেয়ে বলে নিয়ে আসছিলেন …আমার গায়ে কাপড় নাই… দয়া করে আমাকে ঘরের দরজা বন্ধ করে যা বলার বলেন…কিন্তু এই অপমান করেন না’ …ভিডিও টা এখনও আমার কাছে…

দেশের শিল্পী আমি?

আজকে এই টাও বলে ফেললাম… এর চাইতে কাপড় পড়া অবস্থায় আমার গায়ে আগুন দিয়ে দিত… আমি যাই বললাম তাতে পুরা মিডিয়া, শিল্পীরা, আমার ভক্তরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার কথা… কাপড় ছাড়া ঐ ছেলেকে রাস্তায় নামিয়ে জুতার বাড়ি দিয়ে মারার কথা… তাইনা?

আমার এই পোস্টটাই তো সবার শেয়ার করার কথা তাইনা? কেও করবে নাহ্‌… কেও নাহ… কারণ আমি বেঁচে আছি…এই মিলা কেন এখনও প্রতিদিন চিৎকার করে কাঁদে উত্তর পাও তোমরা?

আমি দেশের জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী? এখনও আজকেও বার বার ‘US-BANGLA’র এমডি কে কল দিয়েছি…কথা বলতে চেয়েছি … কেন আমার ন্যায্য বিচার তারা তাদের ক্ষমতা দিয়ে আটকে রেখে ওই কুলাঙ্গার কে চাকরিতে রাখছেন? কীভাবে আমার উপর এত অন্যায় এর পর US-BANGLA cabin crew er সাথে বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা ওই জঘন্য ছবি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পরও এই ছেলেকে সামাজিক মর্যাদা দিয়ে US-BANGLA এমডি সবাইকে বলে বেড়ান যে ‘That in any cost এই মেয়েকে জিততে দিবো না’…

দেশের নাগরিক হিসেবে আজকে এই বলব… ওই ছেলের বিচার চাই আমি তাইলে… US-BANGLA আরও দুইজন পাইলট যারা আমাকে রাস্তায় রাস্তার অপদস্থ করে নোংরা কথা বলে.. তাদের নাম rezwan ahmed khan ও shams rezwan।

তারা শুধু আমাকে না বরং আমার বাবা কে নিয়েও প্রকাশ্যে গালি দেয়া.. উল্টা দিকে এরা আমাকে ICT ACT এর হুমকি দিতে থাকে ….আমি US-BANGLA’র এই তিন জনের বিচার চাই… আমি আমার দেশ ও দেশের সরকার এর কাছে আমার ভেঙে দেয়া মেরুদণ্ড ফিরে চাই… ফাইলের উপর ফাইল করা সকল প্রমাণ আমার কাছে জমা…কিন্তু বাকিদের বিচার কই চাইব?

এদিকে ওই ছেলে দেশ ছেড়ে পালানোর জন্য বিভিন্ন বিদেশি এয়ার লাইনে চেষ্টা করে যাচ্ছে… আমার আবেদন আমার নেত্রীর কাছে, আমার অপরাধী যাতে পালাতে না পারে.. আমার মামলাটি দয়া করে আবারো সঠিক ধারায় চার্জ গঠন করার আর্জি জানাই… গত দশ দিন আগে আমি ওই ছেলেকে হাতে নাতে পতিতা নিয়ে ধরলে ওই ছেলে আমাকে ‘গুলি করে হত্যা করে সেলফ ডিফেন্স বলে প্রমাণ করে দিবে’ বলে আমাকে আর আমার বাবাকে sms করে… গুলি খাওয়ার আগে বিচার চাই…বিচার চাই.. আমি বিচার চাই…

ইতি
একজন জীবিত নুসরাত

নুসরাতই নয়, আরও একাধিক ছাত্রী সেই অধ্যক্ষের লালসার শিকার!

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে আরও একাধিক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ছাত্রীর অভিযোগ, অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা যে শুধু আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির সঙ্গে এমনটা করেছেন তা নয়। আমাদের অনেকেরই সাথে এমন করেছে তিনি। এটা ওনার (অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা) একটা অভ্যাস ছিল।

নুসরাতকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি শেষ পর্যন্ত মা-বাবার আর্তি, সতীর্থসহ সকলের প্রার্থনা আর চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ৫দিন একটানা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যান।

অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা নুসরাতকে তার কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন। পরে এ ঘটনায় গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার।

এরপর গত ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষায় অংশ নিতে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে গেলে পরীক্ষার আগ মুহূর্তে মিথ্যা কথা বলে দুর্বৃত্তরা নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তার দায়ের করা শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে নিতে বলে। সে রাজি না হলে দুর্বৃত্তরা তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে নুসরাতের শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায়।

একাধিক ছাত্রীদের অভিযোগ, নুসরাত সহ একাধিক ছাত্রী যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে ওই মাদ্রাসা কমিটির কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় হিংস্র ও বেপরোয়া ছিলেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। আবার কোন প্রতিকার না হওয়ায় ভয়ে অনেক ছাত্রী অভিযোগ করতেও একপর্যায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

অবশ্য এই ব্যর্থতার দায়ে মাদ্রাসার পরিচালনা পরিষদ বাতিলের দাবি উঠেছে।

এ বিষয়ে ফেনীর জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহেদুজজামান গণমাধ্যমকে জানান, গভর্নিং বডি নিয়ে যে কথা উঠছে, যদি তাদের কোনো গাফিলতি থাকে তাহলে সেটা আমরা দেখবো। রিপোর্ট পাওয়ার পরে জানা যাবে যে কার কোথায় গাফিলতি ছিল। তদন্তে দায়ী হলে মাদ্রাসা কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত আক্তার রাফিকে যৌন হয়রানি করেছিল ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। এ ঘটনায় নুসরাত থানায় অভিযোগ করলে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা তুলে না নেওয়ায় নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। গত ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে গিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া হয়। পরে গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে শিক্ষাঙ্গানে যৌন নিপীড়ন-সহিংসতা রোধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা প্রণীত হলেও মানছে না ফেনী সহ দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে করে দিনে পর দিন বাড়ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির ঘটনা।

নুসরাত হত্যার ভয়াবহ বর্ণনা দিল নুর ও শামীম

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। শেষ পর্যন্ত মা-বাবার আর্তি, সতীর্থসহ সকলের প্রার্থনা আর চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে পাঁচদিন একটানা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত মারা যান।

এদিকে, নুসরাত হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আরও অন্তত প্রায়ই ১২ জন জড়িত বলে জানা গেছে।

রবিবার (১৫ এপ্রিল) নুসরাত হত্যা মামলার আসামি নুর উদ্দিন ও শাহদাত হোসেন শামীম আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জড়িতদের নামও উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম সোনাগাজী উপজেলা আ’লীগের সভাপতি রুহুল আমিনের নামও রয়েছে। বাকি সবাই ওই মাদ্রাসার আলিম ও ফাজিল শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জড়িত বলে জানা যায়।

রবিবার ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: জাকির হোসাইন আসামি নুর উদ্দিন এবং শাহদাত হোসেন শামীমের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা ধরে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নুর ও শামীম নৃশংস ওই পুরো ঘটনাটির ভয়াবহ বর্ণনা দেন।

এর আগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার জানান, এজাহারভুক্ত আসামি সহ মোট ১৩ জন হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত রয়েছেন।

পিবিআই-এর ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নুর উদ্দিন ও শাহদাত হোসেন শামীম অনেক তথ্য দিয়েছে। তারা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে তারা কীভাবে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কীভাবে কী করে তা বিস্তারিত বলেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নুর উদ্দিন ও শামীম আরও কিছু নাম বলেছে। তদন্তের স্বার্থে আমরা তা প্রকাশ করছি না। এসব তথ্য যাচাইবাছাই করে বাকিদেরও গ্রেফতার করা হবে।’ পিবিআই-এর ফেনীর দায়িত্বরত এই কর্মকর্তা এমনটাই জানান।

একটি গোপন সূত্রে জানা যায়, যৌন হয়রানির মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা গ্রেফতার হওয়ার পর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের নির্দেশে নুর উদ্দিন ও শাহদাত হোসেন শামীম অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার মুক্তির জন্য আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলন ও নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার জন্য সোনাগাজীর একজন পৌর কাউন্সিলর তাদের ১০ হাজার ও মাদ্রাসার আরেক শিক্ষকও ৫ হাজার টাকা দেন।

নুসরাত হত্যায় সরাসরি অংশ নেয়া শাহদাত হোসেন শামীম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর সে দৌড়ে নিচে নেমে মাদ্রাসার উত্তর দিকের প্রাচীর টপকে বের হয়ে যায়। বাইরে গিয়ে সে মোবাইল ফোনে রুহুল আমিনকে বিষয়টি জানায়। এ সময় রুহুল আমিন বলেন, আমি জানি। তোমরা চলে যাও।

শামীম এটাও বলেছে, নুসরাত জাহান রাফির দায়ের করা মামলার পর রুহুল আমিন থানা ম্যানেজ করার দায়িত্ব নিয়েছিল।

নিহত নুসরাতের প্রতি নিজের প্রচণ্ড ক্ষোভের কথা উল্লেখ করে শামীম তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছে, সে নুসরাতকে দেড় মাস আগেও প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু নুসরাত তা প্রত্যাখান করার পাশাপাশি তাকে অপমান করে। এই কারণে সে নিজেও মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতের প্রতি ক্ষুদ্ধ ছিল। যার ফলে ওই মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে অন্যদের সঙ্গে নিয়ে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।

মামলার আরেক আসামি নুর উদ্দিন বলেছে, তার সাথে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার ভালো সম্পর্ক ছিল। এ কারণে সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে তারা পরিকল্পনা করে নুসরাতকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি এও জানান, ঘটনার সময় সে ভবনের নিচে ছিল। আর পরিকল্পনা অনুযায়ী উম্মে সুলতানা পপি গিয়ে নুসরাতকে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। ওই সময় ছাদে কামরুন নাহার মণি ছিল।

নুর উদ্দিন আরও জানিয়েছে, অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা বিভিন্ন সময় ছাত্রীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের যৌন হয়রানি করতো।

প্রসঙ্গত, ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানি করেছিল ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। পরে এ ঘটনায় নুসরাত থানায় অভিযোগ করলে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গত ৬ এপ্রিল তারিখে সকাল বেলা সোনাগাজী ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে গেলে নুসরাত জাহান রাফিকে পরীক্ষা কেন্দ্রের ছাদে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির মামলা তুলে নিতে বলা হয়। এ সময় নুসরাত মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানালে মুখোশ পরা লোকজন তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন নুসরাত মারা যান।

পহেলা বৈশাখে প্রেমিকের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার কিশোরী

চট্টগ্রামে পহেলা বৈশাখের দিন বেড়াতে নিয়ে গিয়ে প্রেমিকাকে(১৫)গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার দুপুরে পটিয়ার একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে ওই কিশোরীর প্রেমিক ও তার বন্ধু মিলে তাকে ধর্ষণ করে।

তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোরী পটিয়ার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ওই কারখানার গাড়ি চালক রিপনের সঙ্গে কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পহেলা বৈশাখে ছুটি থাকায় তারা দুজন ঘুরতে বের হয়। পরে রিপন কৌশলে মেয়েটিকে পটিয়ার একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে রিপনসহ তিনজন মিলে কিশোরীকে ধর্ষণ করে। পরে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে একজন অটোরিকশা চালক মেয়েটিকে অজ্ঞান অবস্থায় প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পটিয়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. বাবলু দাশ জানান, ধারণা করা হচ্ছে, দুই থেকে তিনজন মিলে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় পটিয়া সরকারি মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে এলে অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক আমির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাতে ছাত্রদের সঙ্গে সমকামিতায় লিপ্ত হতেন সিরাজ উদ দৌলা! (ভিডিও)

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে নুর উদ্দিনের পরিকল্পনায় পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত মারা যান।

নুসরাত হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সেই অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ‘বলাৎকার’ করার অভিযোগ উঠেছে।

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে যৌন নিপীড়ন ও পরে আগুনে পুড়িয়ে হত্যায় অভিযুক্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ছেলেদের বলাৎকারও করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের লাইভে এসে এই অভিযোগ করেছন ফেনীর দৌলতপুরের আবুল বাশার নামের এক ব্যক্তি। তিনি দাবি, তার দাদার প্রতিষ্ঠা করা এক মাদ্রাসার সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন সিরাজ এবং তখনই তিনি ওই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন বলে জানান আবুল বাশার।

বাশার বলেন, আজ একটা ঘটনা আমাকে লাইভে আসতে বাধ্য করেছে। আমি ধর্ষক সিরাজ উদ দৌলা সম্পর্কে কিছু বলতে চাই। আমি ১৯৯৫ সালে বাড়িতে যাই। তখন সিরাজ উদ দৌলা আমার দাদার প্রতিষ্ঠিত দৌলতপুর সালামাতিয়া মাদ্রাসার সুপার। ছাত্রদের পড়ানোর নাম করে তাদের মাদ্রাসার হোস্টেলে রেখে রাতে সমকামিতায় লিপ্ত হতেন।

তিনি বলেন, একদিন বিকেলে ৯ম শ্রেণির এক ছাত্র আমাকে জানায়, মাদ্রাসার সুপার সিরাজ উদ দৌলা আমার সঙ্গে রাতে সমকামিতায় লিপ্ত হয়। আমি এই ঘটনার বিচার দাবি করলে সিরাজ উদ দৌলা আমার পেছনে লাঠিয়াল বাহিনী লাগিয়ে দেয়। আমি লাঠিয়াল বাহিনীকে প্রতিহত করতে পারলেও সুষ্ঠু বিচার করাতে পারি নি।

তিনি আরও বলেন, বিচার করতে না পারার কারণ সিরাজ উদ দৌলার দোসর, প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও বিএনপি নেতা মাহবুবল হক, বর্তমানে সোনাগাজীর সোনাপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ও বর্তমান দৌলতপুর সালামাতিয়া মাদ্রাসার সুপার বজলুল করিম ও জেলা শিক্ষা অফিসারের প্রতারণার কারণে সুষ্ঠু বিচার হয়নি।

এ সময় তিনি মাদ্রাসাছাত্রী নিহত নুসরাত জাহান রাফির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আবুল বাশার বলেন, আমি নুসরাতের প্রতি কৃতজ্ঞ যে ১৯৯৫ সালে আমি যে বিচার করাতে পারিনি ২০১৯ সালে তুমি সেই বিচারের দাবি ভাইরাল করতে পেরেছো। তুমি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেও তোমার বিচারের দাবিতে সারা দেশ সোচ্চার।

প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল তারিখে সকাল বেলা সোনাগাজী ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে গেলে নুসরাত জাহান রাফিকে পরীক্ষা কেন্দ্রের ছাদে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির মামলা তুলে নিতে বলা হয়। এ সময় নুসরাত মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানালে মুখোশ পরা লোকজন তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন নুসরাত মারা যান।

৪৯ নারী রোগীকে অবৈধভাবে গর্ভবতী করেছেন এই ডাক্তার!

বিনা অনুমতিতে নিজের শুক্রাণু ব্যবহার করে রোগীদের গর্ভধারণে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে নেদারল্যান্ডের একজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। পরে ডিএনএ টেস্ট করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এভাবেই ৪৯টি অবৈধ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এই চিকিৎসক।

অভিযুক্ত এই ডাচ চিকিৎসকের নাম ইয়ান কারবাত। তিনি রটারড্যামের কাছে একটি ক্লিনিকে সন্তান জন্মদানে সমস্যা হচ্ছে এমন মায়েদের চিকিৎসা করতেন। দুই বছর আগে মারা যান তিনি।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানায়, শুক্রবার দেশটির একটি আদালতের একজন বিচারক এসব ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করার নির্দেশ দেয়ার পর বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জানা যায়, ফার্টিলিটি চিকিৎসক হিসেবে কারবাতের কাজ ছিল সন্তান জন্মদানে সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ডাক্তারি সহায়তা দেয়া এবং তাদের সন্তান নিতে সহায়তা করা। কিন্তু এসব ব্যক্তির অনুমতি না নিয়ে তিনি নিজের শুক্রাণু ব্যবহার করেই তিনি একে একে ৪৯ টি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

ফার্টিলিটি ক্লিনিকের একটি কাজ হল কোনো পুরুষের কাছ থেকে তার দান করা শুক্রাণু সংগ্রহ করা। অনেক ক্ষেত্রে শুক্রাণু দানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হয়। আবার অনেক সময় চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিরা শুক্রাণু দানকারীকে নিজেরা পছন্দ করে নিয়ে আসেন।

এরপর সেই শুক্রাণু দিয়ে ল্যাবে ভ্রূণ তৈরির পর সহায়তা নিতে আসা ব্যক্তিদের সন্তান জন্মদানে সহায়তা করা হয়। ফার্টিলিটি চিকিৎসক ইয়ান কারবাতে এসব ক্ষেত্রে নিজেই নিজের শুক্রাণু ব্যবহার করতেন বলে এখন জানা যাচ্ছে। তাও আবার চিকিৎসা সহায়তা নিতে আসা লোকজনের কোনো ধরণের অনুমতি ছাড়াই।

এই চিকিৎসকের ক্লিনিকে সহায়তার মাধ্যমে জন্ম নেয়া একটি শিশুর চেহারা অভিযুক্ত ডা. কারবাতের সাথে মারাত্মকভাবে মিলে যাওয়ার পর থেকেই রোগী ও অন্যান্য মানুষের মাঝে সন্দেহের শুরু হয়। ২০১৭ সালে তার সহায়তায় জন্মানো ৪৯ শিশু ও তাদের বাবা-মায়েরা একই সন্দেহ থেকে আদালতে মামলা করেন।

চিকিৎসকের শুক্রাণু থেকে জন্ম নেয়া এসব শিশুর বেশিরভাগেরই জন্ম ১৯৮০-এর দশকে। বিভিন্ন কারণেই এসব শিশুর পিতা-মাতাদের সন্দেহ হচ্ছিলো যে, ওই ক্লিনিকে জন্ম নেয়া শিশুদের সাথে এই চিকিৎসকের কোনো সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু ২০১৭ সালে মামলা দায়েরের পরই ওই বছর ৮৯ বছর বয়সে মারা যান সেই চিকিৎসক। এরপর তার বাড়ি ও অফিস থেকে বহু কাগজপত্র জব্দ করা হয়। সেই বছরই ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করে এই ব্যাপারে আদালত জানতে পারে।

কিন্তু এতদিন সবগুলো মামলার কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের ব্যাপারে কিছু বিধি নিষেধ ছিল। এখন আদালত তথ্য প্রকাশ করার অনুমতি দিয়েছে। আর এরপরই এসব তথ্য সবার সামনে প্রকাশ হয়ে পড়ে।

এগারো বছর ধরে নিজের বাবাকে খুঁজেছেন ওই বিতর্কিত ক্লিনিকে চিকিৎসার মাধ্যমে জন্ম নেয়া একজন। অবশেষে তিনি জেনেছেন তার বাবা স্বয়ং তার মায়ের চিকিৎসক। তিনি বলেন,‘১১ বছর ধরে খোঁজার পর এখন আমি আমার জীবনে ফিরে যেতে পারবো। একটি অনিশ্চিত অধ্যায়ের অবশেষে সমাপ্তি হল। আমি খুশি যে অবশেষে আমি আমার প্রশ্নের জবাব পেয়েছি।’

২০০৯ সালেই ওই বিতর্কিত ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেয়া হলেও, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. কারবাত নিজেকে দাবি করতেন ‘এসিস্টেড রিপ্রোডাকশন’ বিষয়ক একজন পথিকৃৎ হিসেবে।

তার বিরুদ্ধে সে সময় আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে বলা হয়েছিল- তিনি শুক্রাণু দানকারীদের সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। আর এই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছে যে, অভিযুক্ত ওই বিতর্কিত চিকিৎসকের জন্ম দেয়া সন্তানের সংখ্যা হয়ত আরো বেশি হবে।

প্রকাশ্যে তরুণীকে অমানবিক শাস্তি

মাথার ওপর কাঠফাটা রোদ। এমন রোদের মধ্যে যেখানে একা একাই হেঁটে যাওয়া দুষ্কর, সেখানে এক যুবককে কাঁধে নিয়ে খোলা মাঠের মধ্যে দিয়ে খালি পায়েই হেঁটে যাচ্ছেন এক তরুণী। আর তাকে ঘিরে নানা বয়সের মানুষের ভিড়।

তবে কোনো খেলা বা প্রতিযোগিতা নয়। কিংবা অসুস্থ কোনো ব্যক্তিকেও বহন করছেন না তিনি। শাস্তি হিসেবে ওই তরুণীকে গ্রাম ঘোরানো হচ্ছে। ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপাল থেকে প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার দূরে দেবীগড় গ্রামের এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, হাঁটার সময় ওই তরুণীর পা টলছে, কাঁপছে শরীরও। দেখে মনে হচ্ছে কাঁধের ভার সইতে না পেরে এই বুঝি মাটিতে লুটিয়ে পড়বেন। ওই যুবতী কাঁধে বহন করছেন তার স্বামীকে। আর এই দৃশ্যই তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছেন মাতব্বরসহ গ্রামবাসী। ওই তরুণী ক্লান্ত হয়ে একটু থামলেই আশপাশ থেকে ভেসে আসছে হুমকি। ওই তরুণীর কষ্ট দেখে আশপাশের মানুষেরা যেন আনন্দে মেতেছেন। কেউ নাচছেন।, কেউবা আবার সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করছেন।

জিনিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভিন্ন জাতের ছেলেকে বিয়ে করার ‘অপরাধে’ ওই তরুণীকে এমন শাস্তি দিয়েছেন গ্রামের মাতব্বররা।

তবে এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই সারা ভারতে নিন্দার ঝড় উঠেছে। সবার প্রশ্ন, প্রাপ্ত বয়স্ক দু’জন স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছেন, তারপরও কোন নিয়মে এমন শাস্তি ভোগ করতে হবে তাদের?

এরই মধ্যে এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঝাবুয়া থানার এসপি বিনীত জৈন বলেন, ওই তরুণীকে অপমান করার কারণে প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আমাকে ভোট দিন, না হলে অভিশাপ দেবো: বিজেপি প্রার্থী

ভারতে চলমান লোকসভা নির্বাচনের গণসংযোগ ও প্রচারণায় গিয়ে ভোট না দিলে ভোটারদের ‘অভিশাপ’ দেয়ার হুমকি দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী সাক্ষী মহারাজ। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার উত্তর প্রদেশের সোহরামউ থানা এলাকার শেষপুরে এক নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় ভোট না দিলে উপস্থিত ভোটারদের ‘অভিশাপ’ দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন বিজেপি প্রার্থী সাক্ষী মহারাজ।

এ বিষয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টির পর স্থানীয় নগর ম্যাজিস্ট্রেট রাকেশ কুমার গুপ্তা বলেন, বিজেপি প্রার্থী সাক্ষী মহারাজের মন্তব্য গুরুত্ব সহকারে নিয়ে তার বিরুদ্ধে সোহরামউ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিজেপি সংসদ সদস্য ও দলীয় প্রার্থী সাক্ষী মহারাজ বলেন, আমি একজন সাধু। শাস্ত্রে লেখা আছে যে, কোনো সন্ন্যাসীর ইচ্ছাপূরণ না করলে, তিনি সব ভালো জিনিস নিয়ে চলে যান আর তার পরিবর্তে ‘পাপ’ দিয়ে যান। ফলে তাকে ভোট না দিলে উন্নাওয়ের ভোটারদের পাপিষ্ঠ হতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আমি একজন সন্ন্যাসী, আপনারা আমাকে জেতালে আমি জিতব। তা না হলে মন্দিরে ভজন-কীর্তনে সময় কাটাব। কিন্তু আজ আমি এখানে এসেছি আপনাদের ভোট প্রার্থনা করতে। আমি আপনাদের দরজায় এসে ভোট ভিক্ষা করছি। কিন্তু সন্ন্যাসীকে আপনি ফিরিয়ে দিলে আপনার পরিবারের সুখ আমি ছিনিয়ে নেব এবং আপনাকে অভিশাপ দেবো।

সাক্ষী মহারাজের দাবি, তিনি যা বলেছেন তা শাস্ত্রে বলা হয়েছে। তিনি তার কথাকে ন্যায্য বলে অভিহিত করে বলেন, তিনি ধন-সম্পত্তি চাননি। লোকেদের কাছে ভোট চেয়েছেন মাত্র, যার ফলে দেশবাসীর ভাগ্য পরিবর্তন হবে।

সাক্ষী মহারাজের অভিশাপ দেয়ার হুমকি সম্বলিত মন্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পরেই প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছে। তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে অযৌক্তিক প্রভাব সৃষ্টির অভিযোগে ওই এলাকার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সূত্র : পার্স টুডে।

এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বাংলার মাটিতে বিজেপিকে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। শনিবার দার্জিলিংয়ে এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এমন হুঁশিয়ারি দেন।

মমতা বলেন, বিজেপি ধর্ম নিয়েই নোংরা রাজনীতি করছে। মানুষকে বিপথগামী করতেই তাদের এই চেষ্টা। আর নির্বাচনের সময় এটাকে বাংলার মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরির কাজে ব্যবহার করছে। ওদের বয়কট করুন। বাংলার মানুষ বিজেপির হিংসার রাজনীতিকে সমর্থন করে না।

মমতা বলেন, বিজেপি তরবারি নিয়ে মিছিল করছে, কার গলা কাটতে চায় ওরা? আমি থাকতে এ বাংলায় কারও গলা কাটতে দেব না। যা পাচ্ছে সেই অস্ত্র নিয়েই মিছিল করছে! লাঠি দিয়ে কার মাথা ভাঙতে চায় ওরা? অত সহজ? বড় বড় কথা বলছে! বাংলায় এনআরসি (নাগরিকপঞ্জি) চালু করবে! কেন্দ্র থেকে উৎখাত করে দিন ওদের! ভাবছে বাংলা দখল করবে!

বিজেপি প্রধান অমিত শাহের মুসলিম অভিবাসীদের বিতাড়িত করার একদিন পরই এর পাল্টা বক্তব্য দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে এক সমাবেশে অমিত শাহ বলেন, ভারতের মুসলমান অভিবাসীদের বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলা হবে। বিজেপি প্রধান বলেন, অনুপ্রবেশকারীরা বাংলার মাটিতে উঁইপোকার মতো। বিজেপি সরকার তাদের এক এক করে তুলে বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলবে।